তিস্তা আবারও বিপদসীমার ওপর: কোথায় ঝুঁকি, কী হতে পারে এবং এখনই কী প্রস্তুতি প্রয়োজন
ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকায় তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চল, চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী জনপদে নতুন করে বন্যা ও নদীভাঙনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা জরুরি—ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেই পুরো উত্তরাঞ্চল একযোগে ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হবে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যায় না। বন্যার ব্যাপ্তি ও তীব্রতা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিন উজানে বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢলের পরিমাণ, তিস্তা ব্যারাজের উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ, স্থানীয় বৃষ্টিপাত এবং নদীর পানি কত সময় বিপদসীমার ওপরে থাকে—এসব বিষয়ের ওপর।
তবু বর্তমান পরিস্থিতিকে সাধারণ বর্ষার স্বাভাবিক ঘটনা ভেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিস্তার পানি অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার একাধিক নজির রয়েছে। চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়েও ডালিয়া পয়েন্টে পানি দ্রুত বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছায় এবং কয়েক দফা তা অতিক্রম করে। কোনো কোনো সময়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে তিস্তা অববাহিকায় দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন এবার তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে?
তিস্তার পানি বৃদ্ধির পেছনে সাধারণত কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করে—
প্রথমত, তিস্তার উজানাঞ্চল ভারতের সিকিম, পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য ও সমতল অঞ্চল এবং হিমালয়ঘেঁষা বিস্তৃত জলাধার এলাকার সঙ্গে যুক্ত। উজানে টানা বা অতিভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল দ্রুত নদীতে নেমে আসে।
দ্বিতীয়ত, উত্তরাঞ্চলে একযোগে ভারী বৃষ্টিপাত হলে স্থানীয় খাল-বিল, ছোট নদী ও নিম্নাঞ্চলের পানি তিস্তায় যুক্ত হয়। ফলে উজানের ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টির পানি একত্র হয়ে নদীর প্রবাহ বাড়িয়ে দিতে পারে।
তৃতীয়ত, বর্ষার শুরু থেকে একাধিক দফা বৃষ্টির কারণে মাটি ও নিম্নাঞ্চল আগে থেকেই পানিতে সম্পৃক্ত থাকলে নতুন বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে প্রবাহিত হয়। এতে অল্প সময়ের মধ্যে নদীর পানি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
চতুর্থত, তিস্তা একটি অত্যন্ত গতিশীল ও বহুচ্যানেলবিশিষ্ট নদী। নদীর তলদেশে পলি জমা, চর সৃষ্টি, শাখা প্রবাহের পরিবর্তন এবং কোথাও কোথাও নদীপথ সংকুচিত হওয়ার কারণে একই পরিমাণ পানি সব এলাকায় একইভাবে প্রবাহিত হয় না। কোনো এলাকায় পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, আবার অন্য এলাকায় প্রবল স্রোত ও ভাঙনের চাপ বাড়তে পারে।
গবেষণায়ও দেখা গেছে, তিস্তা অববাহিকায় নিম্নভূমি, নদীর নিকটবর্তী এলাকা, ভূমির উচ্চতা, মাটির ধরন, নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং ভূমি ব্যবহারের ধরন বন্যার ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে। অর্থাৎ শুধু নদীর পানি কত সেন্টিমিটার বাড়ল, তা দেখলেই ঝুঁকির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।
কোন কোন এলাকা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে?
তিস্তার পানি বাড়লে প্রথম ধাক্কা সাধারণত নদীর চর, নিম্নাঞ্চল ও নদীর একেবারে কাছাকাছি বসতিগুলোতে লাগে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন—
১. লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চল
হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী এবং তিস্তা নদীসংলগ্ন চর ও নিম্নাঞ্চলগুলো ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে। ডালিয়া পয়েন্টের পানির উচ্চতা বাড়লে এসব এলাকার নিচু জমি, চর, কৃষিজমি ও নদীতীরবর্তী বসতিতে পানি প্রবেশের আশঙ্কা বাড়ে।
২. নীলফামারীর তিস্তা অববাহিকা
ডালিয়া ব্যারাজসংলগ্ন এলাকা এবং তিস্তার ভাটির নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানির চাপ বাড়তে পারে। নদীর পানি দীর্ঘ সময় উঁচু থাকলে নিচু জমি ও নদীসংলগ্ন বসতিতে সাময়িক প্লাবন দেখা দিতে পারে।
৩. রংপুর জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকা
গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া এবং তিস্তার চর ও নিম্নভূমিগুলো বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। ডালিয়ায় পানি বাড়ার পর ভাটির দিকে প্রবাহের প্রভাব পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। তাই শুধু ডালিয়ার তথ্য দেখে নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না; কাউনিয়াসহ ভাটির পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর পানির তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
৪. কুড়িগ্রামের তিস্তা অববাহিকা
উলিপুর, রাজারহাট এবং তিস্তা-সংলগ্ন চরাঞ্চলের নিম্নভূমিতে পানি প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। একই সময়ে ধরলা, দুধকুমার বা ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়লে স্থানীয় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
৫. গাইবান্ধার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল
সুন্দরগঞ্জসহ তিস্তার ভাটির চর ও নিম্নাঞ্চলে নদীর পানি বৃদ্ধি, কৃষিজমি প্লাবন এবং স্থানীয় ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তিস্তার পানি ভাটির দিকে নেমে যাওয়ার সময় নদীর স্রোতের পরিবর্তনও কিছু এলাকায় ভাঙনের চাপ বাড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ও চরগুলোতে প্লাবনের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন।
এবার বন্যায় কী কী ঘটতে পারে?
বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা যায়।
প্রথম সম্ভাবনা: স্বল্পমেয়াদি বা স্থানীয় বন্যা
উজানে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেলে এবং নদীর পানি দ্রুত নামতে শুরু করলে তিস্তার চর, নিম্নাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী কিছু এলাকায় সাময়িক পানি প্রবেশ করতে পারে। কয়েক দিন পানি থাকার পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে প্রধান ক্ষতি হতে পারে—
– চর ও নিচু এলাকার কৃষিজমি প্লাবিত হওয়া
– আমন ধানের বীজতলা ও শাকসবজির ক্ষতি
– গবাদিপশুর খাদ্যসংকট
– কাঁচা রাস্তা ও গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি
– নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ
– নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সংকট
দ্বিতীয় সম্ভাবনা: মাঝারি মাত্রার বন্যা
উজানে কয়েক দিন টানা ভারী বৃষ্টি হলে এবং স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীর পানি দীর্ঘ সময় বিপদসীমার ওপরে থাকতে পারে। তখন প্লাবনের এলাকা বাড়তে পারে এবং একাধিক উপজেলার নিম্নাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ অবস্থায় দেখা দিতে পারে—
– চর ও নদীতীরবর্তী পরিবারগুলোর অস্থায়ী স্থানান্তর
– শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের আশ্রয় নেওয়া
– কৃষিজমির বড় অংশ পানিতে ডুবে যাওয়া
– মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
– স্থানীয় বাজার ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়া
– খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া
তৃতীয় সম্ভাবনা: তীব্র বন্যা ও নদীভাঙন
উজানে অতিভারী বৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী পাহাড়ি ঢল এবং স্থানীয় ভারী বর্ষণ একসঙ্গে ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে পারে। নদীর পানি দীর্ঘ সময় বিপদসীমার ওপরে থাকলে শুধু প্লাবন নয়, নদীতীরের দুর্বল অংশে ভাঙনের চাপও বাড়তে পারে।
তবে এই পর্যায়ের বন্যা হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এ জন্য উজানের বৃষ্টিপাত, পানিপ্রবাহ এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার নদীর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ জরুরি।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ: নদীভাঙন
তিস্তার বন্যা শুধু পানি ওঠার সমস্যা নয়; নদীভাঙন অনেক সময় আরও দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় সৃষ্টি করে।
নদীর পানি দ্রুত বাড়লে স্রোতের গতি ও দিক পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে নদীর বাঁক, চরসংলগ্ন প্রবাহপথ, দুর্বল বাঁধ ও অরক্ষিত তীর এলাকায় ভাঙনের চাপ বাড়ে। পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙন থেমে যায় না; অনেক ক্ষেত্রে পানি নামার সময় নদীতীরের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়তে পারে।
তাই নদীর পানি কমলেই বিপদ শেষ—এমন ধারণা ঠিক নয়।
সাম্প্রতিক সময়েও তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় বিচ্ছিন্ন ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে।
এখনই কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
বন্যা শুরু হওয়ার পর প্রস্তুতি নেওয়ার চেয়ে আগেই প্রস্তুতি নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর। নদীতীরবর্তী পরিবারগুলোর এখনই কয়েকটি কাজ করা প্রয়োজন।
১. পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র—জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, জমির দলিল, শিক্ষাসনদ ও ব্যাংকসংক্রান্ত কাগজপত্র—পলিথিন বা জলরোধী ব্যাগে নিরাপদে রাখতে হবে।
২. শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, শিশুখাদ্য, ম্যাচ বা লাইটার, টর্চ, মোমবাতি এবং মোবাইলের পাওয়ার ব্যাংক প্রস্তুত রাখতে হবে।
৩. গবাদিপশুর জন্য উঁচু ও নিরাপদ স্থান নির্ধারণ করতে হবে। সম্ভব হলে কয়েক দিনের শুকনো খড় ও পশুখাদ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
৪. শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও প্রতিবন্ধী সদস্যদের আগে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে।
৫. স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র, উঁচু বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির বা নিরাপদ সরকারি স্থাপনার অবস্থান আগেই জেনে রাখতে হবে।
৬. নদীর পাড়ে নতুন করে ঘর নির্মাণ, মাটি কাটা বা ভারী যানবাহন চলাচল এড়িয়ে চলতে হবে। ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে হবে।
৭. শিশুদের নদী, স্রোত বা প্লাবিত এলাকায় যেতে দেওয়া যাবে না। বন্যার পানিতে বিদ্যুতের তার বা বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
৮. গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অযাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসরণ করতে হবে।
প্রশাসনের করণীয় কী?
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন—
– ডালিয়া, কাউনিয়া এবং ভাটির অন্যান্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পানির তথ্য নিয়মিত প্রকাশ
– নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাম ও চরাঞ্চলের হালনাগাদ তালিকা তৈরি
– দুর্বল বাঁধ, স্পার ও তীররক্ষা কাঠামো জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন
– আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা
– শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণ মজুত রাখা
– গবাদিপশুর জন্য পৃথক নিরাপদ স্থান নির্ধারণ
– নৌকা ও উদ্ধারসামগ্রী প্রস্তুত রাখা
– ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া
– নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর আগাম স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা
আগামী কয়েক দিন কী দেখবেন?
পরিস্থিতি বোঝার জন্য শুধু “পানি বিপদসীমার ওপরে” এই একটি তথ্য যথেষ্ট নয়। নিয়মিত কয়েকটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে হবে—
প্রথমত, ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রতি ঘণ্টা বা প্রতি ছয় ঘণ্টায় কতটা বাড়ছে বা কমছে।
দ্বিতীয়ত, কাউনিয়া ও ভাটির অন্যান্য পয়েন্টে পানি বাড়ছে কি না।
তৃতীয়ত, উজানে ভারী বা অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে কি না।
চতুর্থত, তিস্তার পানি কত সময় ধরে বিপদসীমার ওপরে থাকছে।
পঞ্চমত, নদীর চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশের খবর পাওয়া যাচ্ছে কি না।
ষষ্ঠত, কোথাও বাঁধ ক্ষতি, তীরধস বা নতুন নদীভাঙনের খবর আছে কি না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নিয়মিত নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস প্রকাশ করে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলালে তাদের সর্বশেষ বুলেটিনকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।
শেষ কথা
তিস্তার বর্তমান পরিস্থিতি আতঙ্ক ছড়ানোর বিষয় নয়, কিন্তু অবহেলা করারও সুযোগ নেই। নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া একটি স্পষ্ট সতর্কসংকেত। বিশেষ করে চরাঞ্চল, নিম্নভূমি ও ভাঙনপ্রবণ নদীতীরের মানুষদের এখনই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
বন্যা হবে কি হবে না—এই প্রশ্নের চেয়ে এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো, বন্যা হলে আমরা কতটা প্রস্তুত থাকব।
প্রস্তুতি থাকলে ক্ষতি কমানো যায়। আগাম সতর্কতা, সঠিক তথ্য, দ্রুত যোগাযোগ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণই তিস্তা অববাহিকাকে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি সহায়তা করতে পারে।
সতর্ক থাকুন। গুজব নয়, যাচাইকৃত তথ্য অনুসরণ করুন। নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর খোঁজ নিন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
